1. bd439364@gmail.com : BD FARIDPUR 24 : BD FARIDPUR 24
বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
***পরীক্ষামূলক সম্প্রচার***
প্রধান খবর
করোনায় কারণে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, একসাথে মোকাবেলা করতে হবে -শেখ হাসিনা। BOBPL সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মোঃ ফজলুল হক করোনা থেকে নিজে বাচুন অন্যকে বাচাতে এগিয়ে আসুন। রাসুলুল্লাহ সাঃ,র জীবনি নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু প্রশ্ন উত্তর। পবিত্র আশুরা সংক্ষিপ্ত বিবরণ আলহাজ্ব শেখ মোঃ ফজলুল হক,। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯২০-১৯৭৫-১৫ আগষ্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু,র কৃতিত্ব। বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পুরস্কার বঙ্গবন্ধু ঘোষিত বাঙালীর মুক্তির সনদ-৬ দফা ভাষা আন্দোলন বঙ্গবন্ধু। ২১-ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ ভুমিকা। টুঙ্গিপাড়ার মুজিব কি ভাবে বঙ্গবন্ধু এবং জাতির পিতা হলেন জানুন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় শতভাগ বিদ্যুৎ।

স্বাধীনতার পরিপূর্ণ তৃপ্তি আসে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২

  • Update Time : রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

আজ ১০ জানুয়ারী-২০২১ রোজ রবিবার, হাজার বৎসরের সর্ব শ্রেষ্ট বাঙালী স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করছি, এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনাসহ মহান আল্লাহর দরবারে জান্নাতুল ফেরদৌসের আবেদন করছি, আমি আলহাজ্ব শেখ মোঃ ফজলুল হক, সাবেক ছাত্রনেতা, সংগ্রামী সভাপতি বাংলাদেশ অনলাইন বঙ্গবন্ধু পরিষদ লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী, সাবেক সহ-সম্পাদক কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার পরিপূর্ণ তৃপ্তি আসে ১৯৭২ সালের-১০ জানুয়ারিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। সেদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ হাজার বৎসরের শ্রেষ্ট বাঙালী যার জন্ম না হলে আজ বাংলাদেশ পরাধীন শিকলে বন্ধ থাকতো, সেই স্বাধীনতার স্থপতি মুক্তিযুদ্ধের মহান নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাগত জানাতে ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রেসকোর্স ময়দানসহ ঢাকার অলিগলি ছিল মানুষে মানুষে  পদচারণয় মুখরিত।

বীর দর্পণে স্বাধীন জন্মভূমিতে পা রেখে আপ্লুত বঙ্গবন্ধু, সেদিন চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। ‘‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক অবিস্মরণীয়ক্ষণ, অভূতপূর্ব মুহূর্ত। পরাধীন মুক্ত দেশের উচ্ছ্বাস নাগরিকদের দেখে সেদিন বঙ্গবন্ধুর চোখে বিজয়ী বীরের পরিতৃপ্তির হাসি ছিল।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ২৮ দিনের পর অর্থাৎ-৯ মাস ২২ দিন পর ৮ জানুয়ারি  বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হন, মুক্তি পাওয়ার পর পাকিস্তান সরকার তাকে বাংলাদেশে ফেরৎ না পাঠিয়ে লন্ডনের বিমানে তুলে দেন।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি ভোরে লন্ডনে পৌঁছান। পরেদিন  ব্রিটেনের বিমানবাহিনীর একটি রাজকীয় বিমানে করে ৯ জানুয়ারি দিল্লিতে সামান্য যাত্রা বিরতি করে ১০ জানুয়ারি দুপুর- ১টা ৪১ মিনিটে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু। যাত্রা বিরতিকালে দিল্লিতে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয় সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধু ভারতের সরকার ও জনগণের কাছে তাদের অকৃত্রিম সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে। সেদিন দেশের সব রাস্তা গিয়ে মিলেছিল তৎকালীন তেজগাঁওয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ফুলে ফুলে ছেয়ে গিয়েছিল তার যাত্রাপথ।

যদি ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন না হতো তাহলে ডিসেম্বরেই বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝুলানো হতো তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম পর্যালোচনায় পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হলেও স্বাধীনতা অপূর্ণতা রয়েগিছিল, কারণ বঙ্গবন্ধু ছাড়া চুড়ান্ত স্বাধীনতার পূর্ণতা, অসমাপ্ত থেকে যায়,, স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে বাঙালী জাতি, যেদিন জাতির পিতা তার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলে।

১৯৭১ সালে‘১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রুমুক্ত হলেও বঙ্গবন্ধু কে পাকিস্তানি হায়নারা কোথায় রেখেছিল, সেখানে কেমন আছেন,  বাঙালী জাতি কিছু  জানতোনা। ৮ জানুয়ারি কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির খবর পাওয়া যায়, এবং তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি দেশের ফেরেন।সেদিনটি ছিল সোমবার। সকাল থেকেই লক্ষ লক্ষ মানুষ ‘জয় বাংলা‘, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখরিত করে মিছিল সহকারে বিমান বন্দর অভিমুখে যাচ্ছিল।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ এই সহচর বলেছেন, ‘রেসকোর্স ময়দানেও মানুষ সমবেত হচ্ছিল জাতির পিতাকে একনজর দেখার জন্য,, তার নির্দেশনা পাবার জন্য। এরপর অবসান ঘটে আমাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার। বিমানটি ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করলে জাতীয় নেতারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কে অভ্যর্থনা জানান। সবার হাতে ফুলের মালা ছিল। পরিয়ে দিতেই সংযমের বাধ ভেঙে কেঁদে ফেলেন বঙ্গবন্ধু। সে এক অবিস্মরণীয় ক্ষণ, অভূতপূর্ব মুহূর্ত। বিমানের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু জনতার মহাসমুদ্রের উদ্দেশে হাত নাড়েন। তার চোখে তখন বিজয়ী বীরের পরিতৃপ্তির হাসি। বিমানবন্দরে স্বাধীন বাংলার প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি সম্মান জানানো হয়।’

তারপর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অপেক্ষমাণ ট্রাকে করে রেসকোর্স ময়দানের পথে রওয়ানা। কিন্তু রাজপথে দাঁড়ানো জনসমুদ্র পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রেসকোর্স মাঠে যেতে তাদের ১০ মিনিটের রাস্তায় সময় লাগে ২ ঘণ্টার উপরে। বিকাল সাড়ে চারটায় রেসর্কোস ময়দানে পৌঁছলে করতালি আর স্লোগানে  মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।  বঙ্গবন্ধু মঞ্চে উঠে চারদিকে একবার তাকান আর রুমাল দিয়ে মুখ মুছেছিলেন।

অপ্রুত কন্ঠে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেন। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য সবাইকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন। নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের ঘোষণাও দেন।

রেসকোর্স ময়দান থেকে বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডির বাসার পাশে পরিবারের সদস্যরা অবস্থানকারী আরেকটি বাসায় গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাসভবনটি পাকিস্তানি বাহিনী হায়নারা তছনছ করার কারণে সেই সময় বসবাসের উপযোগী ছিল না বাসভবন।

বঙ্গবন্ধুর মুক্তি, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের, ঘটনা, রেডিওর সংবাদে শোনার পর স্বাধীন বাংলাদেশে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে সারা রাত মুক্তিযোদ্ধারা রাইফেল,,স্টেনগান ও অনান্য অস্ত্র দিয়ে ফাঁকা আওয়াজ করে আনন্দ-উল্লাস করেন। রাস্তায় নেমে আসে লক্ষ লক্ষ জনতা। সারা রাত আনন্দ উল্লাসের কারণে  ঢাকায় কারও চোখে ঘুম আসছিল না।

১০ জানুয়ারি সকালে দিল্লি থেকে বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা শুনেই,‘সকাল থেকেই তেজগাঁও বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হতে থাকে। রেসকোর্স ময়দানও ভরে যায়। সবারই চোখ আকাশের দিকে। একটা চিল উড়তে দেখলেও জনতা উৎফুল্ল হয়ে উঠছিল এই মনে করে যে ওটা বুঝি বঙ্গবন্ধুর বিমান। তবে যখন সেই কাঙ্ক্ষিত বিমান আকাশে দেখা যায়, উল্লাসে ফেটে পড়ে জনতা। বিমানটি কয়েকবার আকাশে চক্কর দিয়ে তারপর বিমানবন্দরে অবতরণ করে।’

বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স মাঠে আসতে দীর্ঘ সময় লাগে, ‘একটি খোলা জিপে সেদিন বঙ্গবন্ধু ছিলেন। তার গাড়ির সঙ্গে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিল বাংলার সাধারণ মানুষ। গাড়িটি আওলাদ হোসেন মার্কেটের (বর্তমান ফার্মগেট) কাছে আসে, ক্লান্ত বঙ্গবন্ধুকে দেখে কয়েকজন মুসল্লি ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন,, বঙ্গবন্ধু আগের চাইতে অনেক শরীর স্বাস্থ্য ক্ষীন হয়েছিল। অনেক মানুষই বঙ্গবন্ধুকে দেখে খুশিতে আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না। আবার অনেককেই চোখ মুছতে দেখা গিয়েছিল। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সোমবার বাংলার মানুষ তাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু কে স্বাধীনতার পরিপূর্ণ তৃপ্তি লাভ করেন এবং স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করেন।

সংগ্রহ ও সংযোজনঃ- আলহাজ্ব শেখ মোঃ ফজলুল হক, সাবেক আপোষহীন ছাত্র নেতা, সভাপতি বাংলাদেশ অনলাইন বঙ্গবন্ধু পরিষদ লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী, এবং সাবেক সহ-সম্পাদক কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

ভাল লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর
© All rights reserved 2020 bobplonlinenews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD