1. bd439364@gmail.com : BD FARIDPUR 24 : BD FARIDPUR 24
মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
***পরীক্ষামূলক সম্প্রচার***
প্রধান খবর
করোনায় কারণে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, একসাথে মোকাবেলা করতে হবে -শেখ হাসিনা। BOBPL সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মোঃ ফজলুল হক করোনা থেকে নিজে বাচুন অন্যকে বাচাতে এগিয়ে আসুন। রাসুলুল্লাহ সাঃ,র জীবনি নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু প্রশ্ন উত্তর। পবিত্র আশুরা সংক্ষিপ্ত বিবরণ আলহাজ্ব শেখ মোঃ ফজলুল হক,। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯২০-১৯৭৫-১৫ আগষ্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু,র কৃতিত্ব। বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পুরস্কার বঙ্গবন্ধু ঘোষিত বাঙালীর মুক্তির সনদ-৬ দফা ভাষা আন্দোলন বঙ্গবন্ধু। ২১-ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ ভুমিকা। টুঙ্গিপাড়ার মুজিব কি ভাবে বঙ্গবন্ধু এবং জাতির পিতা হলেন জানুন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় শতভাগ বিদ্যুৎ।

টুঙ্গিপাড়ার মুজিব কি ভাবে বঙ্গবন্ধু এবং জাতির পিতা হলেন জানুন-

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে

মুসলমান শাসনামলে (১২০১-১৭৫৭ পর্যন্ত) এবং ব্রিটিশ শাসনামলে (১৭৫৭-১৯৪৭ পর্যন্ত) বৃহৎ বঙ্গ বা বাংলার (ভারতের বর্তমান পশ্চিমবঙ্গসহ) একটি নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ছিল। কিন্তু এই বাংলা ১৯৪৭ সালের ভারতবিভাগের পর আরও একবার সুনির্দিষ্টভাবে বিভাজিত হয়। যার একভাগ (পূর্ব বাংলা) তৎকালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অধীন ও অন্যভাগ (পশ্চিম বাংলা) ভারত রাষ্ট্রের অধীন আলাদা আলাদা রাজনৈতিক পরিচিতি পায়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ব বাংলা আবার তার রাজনৈতিক পরিচয় হারিয়ে ১৯৫৬ সালে আমদানিকৃত ‘পূর্ব পাকিস্তান নামে নতুন পরিচয় পায়। ১৯৪৭ সালের পর বঙ্গ বা বাংলা বলতে আমরা পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব বাংলাকেই বুঝি। ১৯৪৭ সালের পর যে এলাকাটুকু নিয়ে পূর্ব বাংলা ছিল তাই বর্তমানের বাংলাদেশ।

এই বঙ্গে বা বাংলাদেশে অনেক কৃতি নেতা জন্ম নিয়েছেন। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো বাঙালি জাতির জন্য এত ত্যাগ আর কোন নেতা স্বীকার করেননি। এই মাটির জন্য, এই মাটির মানুষ, প্রকৃতি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সভ্যতার জন্য এত মায়া আর কারো জীবনে দেখা যায় না। সাধারণ মানুষের প্রতি যে ছোটবেলা থেকেই তার ভালোবাসা ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় গৃহ শিক্ষক আব্দুল হামিদ প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সেবা সমিতি’তে তার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। এই সমিতির মাধ্যমে মূলত দরিদ্র মুসলমান ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ নির্বাহ করা ও জায়গীর ঠিক করে দেওয়ার কাজ করা হত। আব্দুল হামিদের আকস্মিক মৃত্যুর পর এই সমিতিকে তিনি আরও অনেক দিন চালিয়ে নিয়ে যান। এরপর তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ১৯৪৩ সাল থেকে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর, ১৯৪৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ সংসদের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান সংগঠক, ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক (কারাগারে বন্দী অবস্থায়), ১৯৫৩-৬৬ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৫ সালে শেখ মুজিবের উদ্যোগে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়) এবং ১৯৬৬ সাল থেকে দলের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। অর্থাৎ একেবারে তৃণমূল থেকে রাজনীতি করেই তিনি শীর্ষ পদে আসীন হন। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে তিনি ভূমিকা নেন। এটা ছিল তার মানবতাবাদের প্রকাশ।

টুঙ্গিপাড়া গ্রামের মুজিব হয়ে উঠলেন বঙ্গবন্ধু-আমাদের জাতির পিতা

মূলত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বঙ্গবন্ধুর আবির্ভাব ঘটে জাতীয় রাজনীতিতে। ছাত্রাবস্থায় লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান আন্দোলনের সক্রিয় এবং বিশ্বস্ত কর্মী ছিলেন শেখ মুজিব। পাকিস্তান রাষ্ট্র নিয়ে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা খুব দ্রুতই ভেঙ্গে পড়ে যখন রাষ্ট্রযন্ত্র বাঙালির ভাষার বিরুদ্ধে আঘাত করে। খাঁটি বাঙালি বঙ্গবন্ধু এরপর বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বাঙালির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক মুক্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন শোষক পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে। প্রথম জীবনে মুসলিম লীগের সাথে জড়িত থাকলেও ব্যক্তি শেখ মুজিব চিরকালই ছিলেন আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক। ১৯৪৮ সাল থেকে ভাষা আন্দোলন (এই কারণে ১১ মার্চ, ১৯৪৮ সালে আরও কয়েকজনের সাথে তিনিও কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন), ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে বাঙালির স্বার্থরক্ষার চেষ্টা, ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানি সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ও বাঙালির ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো অবস্থান নেওয়া (যেখানে ততকালীন বাঙালি মুসলিম লীগ নেতাদের বেশিরভাগ এ বিষয়ে চুপচাপ ছিলেন), ১৯৫৮ সাল থেকে সেনাশাসক আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ ও ৬৪’র ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন দান ও দিক-নির্দেশনা প্রদান তাঁকে এতদ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাঙালি নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর তিনি ১৯৬৬ সালে আমাদের বাঁচার দাবি ৬-দফা ঘোষণা করে বাংলা ও বাঙালির সুদীর্ঘকালের স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বপ্নপথ রচনা করেন। ৬-দফার কোথাও সরাসরি স্বাধীনতার কথা না বলেও তিনি বঙ্গের ও বাঙালির জাতীয় মুক্তির সনদ রচনা করেন। ৬ দফা ঘোষণার পর একটানা তিনমাস সমগ্র পূর্ব বাংলায় গণসংযোগ করে তিনি ৬-দফার পক্ষে বিশাল জনরায় অর্জন করেন। ফলে, তার উপর পাকিস্তানি শোষকের জেল-জুলুম, নির্যাতন, মামলা-হামলা নেমে আসে। তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাতে (১৯৬৮) ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়, যার পরিণাম ছিল দেশদ্রোহিতার অপরাধে নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড।

এইবার বাঙালি জাতি তার প্রকৃত নেতাকে পরিস্কাররূপে চিনতে পারল। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাতিল করার দাবিতে সমস্ত পূর্ব বাংলাব্যাপী আইয়ুবশাহীর বিরুদ্ধে প্রবল গণ-অসন্তোষ জেগে উঠল। চল চল ক্যান্টনমেন্ট চল’, ‘পূর্ব পশ্চিমে একই আওয়াজ খতম কর আইয়ুবরাজ’, ‘জেলের তালা ভাঙব শেখ মুজিবকে আনবো’, ‘আইয়ুব শাহী মােনায়েম শাহী নিপাত যাক নিপাত যাক’, ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’, ‘তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি’ ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘আইয়ুব মোনায়েম ভাই ভাই’, ‘এক দড়িতে ফাঁসি চাই প্রভৃতি স্লোগানের মাধ্যমে বাঙালি সাধারণ মানুষ, ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে আইয়ুব শাহীকে হুশিয়ার করে দেন। ১৯৬৯ এর প্রথমদিকে গণবিদ্রোহ এমন প্রবল হয়েছিল যে আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে শেখ মুজিবকে বিনা শর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। বস্তুতপক্ষে, শেখ মুজিব এসময় বাঙালি জাতির কণ্ঠস্বর, এ জাতির সকল আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হন। আর এর বিনিময়ে পাকিস্তানের শোষকযন্ত্রের হাতে তাদের ২৩ বছরের শাসনামলের মধ্যে প্রায় ১২ বছর তিনি কারাযন্ত্রণা ভোগ করেন। এমন ত্যাগ আর একজন বাঙালির জীবনে নেই।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ায় ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ডাকসু এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) শেখ মুজিবকে সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করে। ওই সভায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবে উপস্থিত জনতা শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সে দিনটির স্মৃতিচারণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সেদিন আমরা কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আমরা জাতির পক্ষ থেকে নেতাকে একটি উপাধি দিতে চাই। তখন ১০ লক্ষাধিক লোক ২০ লক্ষাধিক হাত তুলে আমাকে অনুমতি দিয়েছিল।

এইভাবেই শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের ‘খোকা, টুঙ্গিপাড়ার “মিয়া ভাই”, আওয়ামী লীগের শেখ মুজিব বাংলার বা বাঙালির বন্ধু ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে গেলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতিকে নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।

শেখমুজিব

বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ

Bangladesh

Bangabandhu

ভাল লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর
© All rights reserved 2020 bobplonlinenews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD